দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালিকায়। বাদ পড়ছেন বড় বড় মন্ত্রী, হুইপসহ প্রভাবশালীরা।
তৃণমূল নেতাদের সাথে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতকার, বিভিন্ন জড়িপ ও গোয়েন্দা
রিপোর্টের ভিত্তিতে এই পরিবর্তন আসছে বলে আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা
কমিটির একটি সূত্রে জানা গেছে।বিগত নির্বাচনে
সিলেট বিভাগের ১৯টি আসন থেকে নির্বাচিত প্রার্থীদের মধ্যে থেকে এবার বাদ
পড়ছেন প্রভাবশালী মন্ত্রী, জাতীয় সংসদের হুইপ সহ ৬জন। এসব আসনে নতুন
প্রার্থী দেওয়া হচ্ছে। তৃণমূল নেতৃবৃন্দের মতামত ও জনপ্রিয়তা ও স্বচ্ছতার
ভিত্তিতে তাদের প্রার্থী করা হচ্ছে। বয়স বিবেচনায় ও তৃণমূল নেতাদের সাথে
দূরত্ব সৃষ্টি, দুর্নীতির অভিযোগসহ নানা কারণে আওয়ামী লীগ সিলেট বিভাগে
৬জনের উপর আস্তা রাখতে পারছেনা বলে এই সূত্রের দাবি। তবে বাকি আসনগুলোতে
পুরনো সংসদরা এবারও প্রার্থী হচ্ছেন।
হযরত শাহজালাল (রহঃ) ও শাহপরান (রহঃ) এর পূণ্যভূমি বিজরিত সিলেট ১ আসন
দেশের জাতীয় সংসদীয় ৩শ আসনের সবগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই আসন
থেকে যে দল বিজয়ী হয় সেই দল সরকার গঠন করে বলে এটি মিথ চালু হয়েছে। বিগত
নির্বাচনের ফলাফল এই মিথটি প্রতিষ্ঠিত করেছে। তাই আওয়ামী লীগও এই আসনটিকে
কোনভাবেই হাতছাড়া করতে রাজি নয়।
বিগত নির্বাচনে বর্তমান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত এই আসন থেকে
বিএনপির প্রভাবশালী নেতা সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী মরহুম সাইফুর
রহমানকে পরাজিত করেছিলেন। তবে বর্তমান সরকারের পুরো সময় জুড়ে শেয়ারবাজার
কেলেংকারীসহ বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে নানারকম বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়ে
মানুষের চক্ষুশুলে পরিনত হন তিনি। তাছাড়া অর্থমন্ত্রীর সাবেক এপিএস আসম
রাশেদসহ সিলেটে অর্থমন্ত্রীর বলয়ের স্থানীয় কিছু নেতাকর্মীর বিতর্কিত
কর্মকান্ড ও দুর্নীতির বিষয়গুলোকে সিলেটের সাধারণ জনগন ভালভাবে নিতে
পারেনি। এসব অভিযোগগুলো গড়িয়েছে আওয়ামীলীগের হাইকমান্ড পর্যন্ত।
অর্থমন্ত্রী এবার প্রার্থী হলে বিজয়ের সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ। আর এসব
অভিযোগ ও বয়সের বিবেচনায় আওয়ামী লীগ অর্থমন্ত্রীর পরিবর্তে সিলেটে আসনে
বিকল্প প্রার্থী খোঁজছে। আর এই বিকল্প প্রার্থী তালিকায় সবচেয়ে এগিয়ে
রয়েছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি
বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। তৃণমূল নেতাদের সাথে তার আন্তরিক যোগাযোগ ও মধুর
ব্যবহার এর কারনে তিনি এগিয়ে রয়েছেন।
মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের একাংশ) আসন থেকে টানা ৪র্থবারের মতো
নির্বাচিত ও জাতীয় সংসদের হুইপ উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ এবার বাদ পড়ছেন
প্রার্থী তালিকা থেকে। চা-শ্রমিক ও সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই আসনে বারবার
নির্বাচিত হয়েও আব্দুস শহীদ এই আসনে তেমন কোন উন্নয়ন করতে পারেননি। তাছাড়া
চা-শ্রমিকদের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টিসহ এলাকায় নানা রকম বিতর্কিত কর্মকান্ড
করে তুমুল সমালোচনার মধ্যে পড়েন। পত্রপত্রিকায় এ নিয়ে অনেক লেখালেখিও হয়।
এসব বিষয় বিবেচনায় ও তৃণমূল নেতাদের মতামতের ভিত্তিতে এবার তিনিও বাদ পড়ছেন
এই প্রভাবশালী সাংসদ। তার পরিবর্তে এই আসনে এবার প্রার্থী হচ্ছেন স্থানীয়
জনপ্রিয় নেতা রণধীর দেব। আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কামিটি সূত্রে
পাওয়া তালিকা অনুযায়ী আগামী নির্বাচনে বর্তমান সংসদ সদস্যদের বাদ দিয়ে নতুন
করে যাদের প্রার্থীতার জন্য মনোয়ন দেয়া হচ্ছে তারা হলেন,
হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে বিগত
নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছিলেন বর্ষিয়ান নেতা দেওয়ান ফরিদ গাজী। তাঁর মৃত্যুর পর
এই আসনে উপনির্বাচনে বিজয়ী হন বিএনপির প্রার্থী সুজাত আলী। আওয়ামী লীগের
প্রার্থী ছিলেন ডা. মুশফিক। এবার মুশফিককে বাদ দিয়ে প্রার্থী করা হচ্ছে
শাহনেওয়াজ গাজীকে (মিলাদ গাজী), হবিগঞ্জ-৩ (সদর- লাখাই) আসনে বর্তমান সংসদ
সদস্য এডভোকেট মো. আবু জাহির এর পরিবর্তে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এম এস
কিবরিয়ার পুত্র ড. রেজা কিবরিয়া, সুনামগঞ্জ-১
(জামালগঞ্জ-তাহিরপুর-ধর্মপাশা) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন
রতনের পরিবর্তে জামালগঞ্জ উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট শামীমা
শাহরিয়ার, সুনামগঞ্জ-৪ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য মতিউর রহমান এর পরিবর্তে
জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মরহুম আব্দুস
সামাদ আজাদ এর ঘনিষ্টজন নুরুল হুদা মুকুটকে প্রার্থী করা হচ্ছে।
